নতুন অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্সে সুখবর দিলেন প্রবাসীরা। জুলাই মাসে তারা দেশে পাঠিয়েছেন ২৪৮ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০ হাজার ২৩০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে হিসাব)। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের একই মাসের তুলনায় এ আয় ২৯.৪৮ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশে এসেছিল ১৯১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স।
ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ বাংলাদেশের পোশাক খাতে নতুন সম্ভাবনা হতে পারে। এরইমধ্যে প্রতিযোগী দেশ চীন থেকে সরে অনেক ক্রেতা অর্ডার দিচ্ছেন বাংলাদেশে, যা আগামীতে আরও বাড়বে। এ সুযোগ কাজে লাগালে দেশের রপ্তানি আয় ১০ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার বাড়ানো সম্ভব হবে। এমন দাবি চট্টগ্রামের পোশাক শিল্প খাতের ব্যবসায়ীদের।
দেশের সব করদাতার জন্য আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রোববার সকালে এনবিআর থেকে এ আদেশ জারি করা হয়। আদেশে বলা হয়েছে ৪ আগস্ট থেকে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।
বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় গোপনীয়তার বিষয়টি শুল্ক চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি সাপেক্ষে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পর শিগগিরই হয়তো যৌথ বিবৃতি আসবে। তথ্য অধিকারের আলোকে এটা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজার সঙ্গে আলাপচারিতায় বাণিজ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেছেন, আমেরিকার কাঁচামাল ব্যবহার করলে আমরা বাড়তি কিছু শুল্ক ছাড় পাবো। আমাদের আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ নির্বাহী আদেশে স্পষ্ট বলা আছে, কিছু দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বা নিরাপত্তা চুক্তি আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে, যেগুলো সম্পাদিত হলে এসব দেশের শুল্ক আরো কমতে পারে। তাই বাংলাদেশকে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।
পাল্টা শুল্কে ভারত ও চীনের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকায়, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন উদ্যোক্তারা। জানান, ক্রেতার কাছ থেকে দাম কমানোর চাপ এলেও তা শক্তভাবে দরকষাকষির সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্ভাবনার পুরোটা কাজে লাগাতে নজর দিতে হবে অভ্যন্তরীণ সংকট কমাতে।
বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক (Reciprocal Tariff) আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় এই হার কিছুটা কম হওয়ায় ব্যবসায়ীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে হিসাবের বিষয় হলো, এই নতুন শুল্ক আরোপের পর যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মোট কত শতাংশ শুল্ক কার্যকর হচ্ছে।
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন- তা থেকে মুক্তি পেতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘প্যাকেজ প্রস্তাব’ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা এ কথা জানান। অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, বাণিজ্য উপদেষ্টা গিয়েছেন প্যাকেজ নিয়ে। আরও কী কী কেনা যেতে পারে- তা নিয়ে।
বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি প্যাকেজ প্রস্তাবনা দেবে বাংলাদেশ বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, এ প্রস্তাবনা নিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রে গেছে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পৃথিবীর কোন দেশে এত আর্থিক বিপর্যয় হয়নি। লুটেরারা ব্যাংকের ৮০ শতাংশ অর্থ নিয়ে গেছে। রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের বই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
শুল্ক ইস্যুতে দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বাণিজ্যিক চুক্তি হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সচিবালয়ে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক আরোপসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
লেনদেনে চাঙা ঢাকার পুঁজিবাজার। আবারও বাজারমুখী পুরোনো বিনিয়োগকারীরা। পুঁজিবাজার শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রকাশ আর জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে বলে বিশ্লেষণ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএর। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মুখ থুবড়ে পড়া বাজার শুধু উঠলেই হবে না; দেখতে হবে তা টেকসই হয় কতটা।
সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। বেড়েছে সূচক এবং লেনদেনের পরিমাণ। তলানিতে থাকা আস্থার সংকট কাটতে শুরু করেছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া বড় বিনিয়োগকারীরা আবারও বাজারমুখী হচ্ছেন, যার প্রভাব পড়েছে লেনদেনে। এটি টেকসই করতে ভালো শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এগারো মাসের মধ্যে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২৪ সালে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও কম থেকে ২০২৫ সালের জুনে ৩১ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে।এতে বোঝা যাচ্ছে, দেশটি এখন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে ।
বাংলাদেশের উপর যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫ শতাংশ শুল্কারোপ পূর্ণ বিবেচনার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। আজ (মঙ্গলবার, ৮ জুলাই) সকালে সচিবালয়ের সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।