| ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র ত্যাগ করবে না হামাস

রিপোর্টারের নামঃ ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট টাইম : 03-08-2025 ইং
  • 97437 বার পঠিত
ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র ত্যাগ করবে না হামাস
ছবির ক্যাপশন: ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র ত্যাগ করবে না হামাস

গাজার যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাসের স্পষ্ট কথা। ফিলিস্তিন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা অস্ত্র ত্যাগ করবে না। গাজায় যুদ্ধবিরতির আলোচনায় প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে ইসরাইল হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণের শর্ত দিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে হামাস ওই মন্তব্য করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে আরও বলা হয়, হামাস এই বক্তব্য দেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফের এক মন্তব্যের জবাবে। উইটকফ বলেছিলেন, হামাস নাকি অস্ত্র ত্যাগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। হামাস দাবি করেছে, উইটকফের বক্তব্য মিথ্যা এবং তারা প্রতিরোধের অধিকার ও অস্ত্র পরিত্যাগ করবে না, যতক্ষণ না জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে পরোক্ষভাবে চলা যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিদের মুক্তি নিয়ে আলোচনা গত সপ্তাহে স্থগিত হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আরব সরকারগুলো হামাসকে গাজা থেকে নিরস্ত্রীকরণ ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে। ফ্রান্স ও কানাডা ইতিমধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আর বৃটেন বলেছে, ইসরাইল যদি নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না করে, তাহলে তারাও সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে। 

যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে হামাস একটি ‘নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে চিহ্নিত। তবে হামাস বলেছে, তারা প্রতিরোধের অধিকার ছাড়বে না এবং অস্ত্র তখনই পরিত্যাগ করা হবে যদি জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন, পূর্ণ সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির শুক্রবার সতর্ক করে বলেন, জিম্মিদের দ্রুত মুক্তির ব্যাপারে আলোচনা ব্যর্থ হলে গাজায় যুদ্ধের কোনো বিরতি আসবে না। শনিবার জিম্মি এভিয়াতার ডেভিডের পরিবার এক বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, হামাস একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে।  তাতে তাকে অন্ধকার টানেলে শার্টবিহীন ও ক্ষীণদেহে দেখা যাচ্ছে। পরিবারটি হামাসের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে তাকে অনাহারে রাখার অভিযোগ আনে এবং তাকে বাঁচাতে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে সক্রিয় পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানায়। 

স্টিভ উইটকফ বর্তমানে ইসরাইলে অবস্থান করছেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার গাজার অবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় মানবসৃষ্ট গণঅনাহার চলছে এবং এর জন্য তারা ইসরাইলকেই দায়ী করছে। ইসরাইল গাজার সব সরবরাহ প্রবেশ পথ নিয়ন্ত্রণ করে। যদিও ইসরাইল দাবি করেছে, তারা কোনো মানবিক সহায়তা বন্ধ করছে না এবং সেখানে কোনো অনাহারে থাকা মানুষ নেই। শনিবার সকালেই উইটকফ তেল আবিবে গাজায় আটক থাকা ইসরাইলি জিম্মিদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তেল আবিবের একটি চত্বরে (যা বিক্ষোভের প্রতীকস্থান হয়ে উঠেছে) তিনি পৌঁছালে উপস্থিত জনতা তাকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানায় এবং জিম্মিদের পরিবারের সমর্থকরা তার কাছে সাহায্যের আবেদন জানায়। 

উইটকফ বলেন, শান্তি প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত যুদ্ধ বন্ধ করা ও সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনা। সফরের অংশ হিসেবে তিনি বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং শুক্রবার তিনি দক্ষিণ গাজার এক বিতর্কিত সহায়তা বিতরণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাসের শেষ দিক থেকে খাবারের খোঁজে গিয়ে কমপক্ষে ১৩৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই মৃত্যুর বেশিরভাগ ঘটেছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-এর বিতরণ কেন্দ্রের আশেপাশে। বেশির ভাগই ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন। ইসরাইল দাবি করেছে, হামাস বিতরণ কেন্দ্রগুলোর আশেপাশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং তাদের সেনারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক লোকজনের ওপর গুলি চালায় না।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Gen Z Bangladesh Online - জেন জি বাংলাদেশ অনলাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ