ডেস্ক নিউজ:
নির্বাচন কমিশনের বিবেচনাযোগ্য নয় নতুন ১৪টি রাজনৈতিক দলের আবেদন। জমা দেওয়া বাকি ৫১টি দলের তথ্যের অবস্থাও ততটা সমৃদ্ধ নয়। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য এখন পর্যন্ত আবেদন করা ৬৪ রাজনৈতিক দলের চিত্র এটি।
এর মধ্যে এক পৃষ্ঠার আবেদন করা দলগুলোকে কিছুদিন সময় দেওয়া হলেও বাকি ৫০ দলের তথ্য যাচাইয়ে তদন্তে নামবে কমিশন। ইতোমধ্যেই প্রাথমিক যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ আমার দেশকে জানান, এখন পর্যন্ত ৬৫টির মতো নতুন রাজনৈতিক দলের আবেদন পেয়েছি। প্রাথমিক বাছাইয়ে দেখা গেছে, ১৪টি রাজনৈতিক দল এক পৃষ্টার আবেদন জানিয়েছে।
এগুলো দিয়ে তাদের সক্ষমতা বাছাই করা সম্ভব নয়। আমরা কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়ে অল্প কিছু সময় দিয়ে তাদের কাছে নতুন করে কাগজপত্র চাইব। এতেও ব্যর্থ হলে তাদের সম্পর্কে তদন্ত করা হবে কি না, কমিশন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। বাকি দলগুলোর বিষয়ে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি শিগগিরই তাদের দেওয়া তথ্যের আলোকে মাঠপর্যায়ে তদন্ত শুরু হবে।
ইসির তথ্য বলছে, এখন পর্যন্ত নিবন্ধন চাওয়া দলগুলোর বেশিরভাগই নামসর্বস্ব। শর্ত শিথিল না হলে বিদ্যমান পদ্ধতিতে একটিরও নিবন্ধনের গণ্ডি পেরোনোর কথা নয়। দল নিবন্ধনের শর্তে বলা আছেÑ ‘একটি কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সক্রিয় কেন্দ্রীয় একটি অফিস, ন্যূনতম এক-তৃতীয়াংশ প্রশাসিনক জেলায় (কার্যকর) অর্থাৎ ২২ জেলায় অফিস এবং ১০০টি উপজেলায় বা ক্ষেত্রমতো, মেট্রোপলিটন থানায় অফিস প্রতিষ্ঠা, যার প্রতিটিতে সদস্য হিসেবে ন্যূনতম ২০০ ভোটারের তালিকাভুক্তি।’ এ ছাড়া নিবন্ধন পেতে আগ্রহী দলের গঠনতন্ত্রে কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সব কমিটির সদস্য নির্বাচিত করা, কমিটিতে কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখা প্রভৃতি। অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচনি ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন নিবন্ধনের জন্য কিছু শর্ত শিথিলের প্রস্তাব করেছে। যেমন নিবন্ধন পাওয়ার জন্য ১০ শতাংশ জেলা ও ৫ শতাংশ উপজেলা বা থানায় দলের অফিস এবং দলটির কমপক্ষে পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে হবে। তবে সংস্কার কমিশনের এ সুপারিশ আশু বাস্তবায়নযোগ্য নয় বলে মনে করছে ইসি।
এক পৃষ্ঠার আবেদন করা দলগুলো হলো- বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা জনতা পার্টি, জাস্টিস পার্টি বাংলাদেশ-জেপিবি, বাংলাদেশ বেকার সমাজ (বাবেস), বাংলাদেশ জনগণের দল (বাজদ), সংবিধান বিষয়ক জনস্বার্থ পার্টি সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ড, বাংলাদেশ গণঅভিযাত্রা দল, ন্যাশনাল লেবার পার্টি (এনএলপি), জনতা মহাজোট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় ভূমিহীন পার্টি (বিএনএলপি), ন্যাশনাল রিপাবলিক পার্টি, বাংলাদেশ জনজোট পার্টি (বাজপা), অহিংস গণ আন্দোলন এবং বাংলাদেশ রিপাবলিক পার্টি।
নিজের বাড়ির ঠিকানায় দলীয় কার্যালয় করে দল নিবন্ধনের আবেদন করেছে বাংলাদেশ বেকার সমাজ (বাবেস) নামে একটি রাজনৈতিক দল। দলটির সভাপতি মো. হাসান বলেন, আওয়ামী লীগের সময় আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তখনকার কমিশন তাদের নিবন্ধন দেয়নি। এটি উচ্চ আদালতে বিবেচনাধীন রয়েছে। এক পৃষ্ঠার আবেদন করেননি বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ গণ অভিযাত্রা দলের মুখপাত্র মো. ইউসুফ জামিলকে ফোন করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তদন্তযোগ্য ৫১ দল
বাংলাদেশ রক্ষণশীল দল (বিসিপি), জনতা কংগ্রেস পার্টি, বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণময় পার্টি, বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি (বাজাপা), বাংলাদেশ তৃণমূল জনতা পার্টি, বাংলাদেশ মুক্তি ঐক্যদল, বাংলাদেশ জনশক্তি পার্টি, বাংলাদেশ নাগরিক আন্দোলন পার্টি, বাংলাদেশ জেনারেল পার্টি (বিজিপি), বাংলাদেশ জনপ্রিয় পার্টি (বিপিপি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-শাহজাহান সিরাজ), বাংলাদেশ জাতীয় লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি (কেএসপি), জনতার কথা বলে, ভাসানী জনশক্তি পার্টি, বাংলাদেশ ফরায়েজী আন্দোলন, ফরওয়ার্ড পার্টি, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি, স্বাধীন জনতা পার্টি, আমজনতার পার্টি, বাংলাদেশ শান্তির দল, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), ডেমোক্রেটিক লীগ (ডিএল), বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী ন্যাপ), বাংলাদেশ জনতার ঐক্য, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), নিউক্লিয়াস পার্টি, ইউনাইটেড বাংলাদেশ পার্টি, বাংলাদেশ মাতৃভূমি দল, বাংলাদেশ বেকার মুক্তি পরিষদ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-সিপিবি (এম), বাংলাদেশ পাক পাঞ্জাতন পার্টি (বিপিপি), সাধারণ জনতা পার্টি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টি (বিজিপি), ন্যাপ ভাসানী, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন, বাংলাদেশ সংস্কারবাদী পার্টি (বিআরপি), জাতীয় পেশাজীবী দল (এনপিপি), বাংলাদেশ জনতা ফ্রন্ট (বিজেএফ), বাংলাদেশ জাতীয় ইনসাফ পার্টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), গণতান্ত্রিক নাগরিক শক্তি-ডিসিপি, বাংলাদেশ জনমত পার্টি, বাংলাদেশি জনগণের পার্টি, মুক্ত রাজনৈতিক আন্দোলন, জনতার বাংলাদেশ পার্টি, মৌলিক বাংলা, বাংলাদেশ জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও মুসলিম সেভ ইউনিয়ন।
ইসির বিবেচনায় অযোগ্য দলের মতো আমলযোগ্য অনেক দলের অবস্থাও একই রকম। এসব দলের অনেকেরই দলীয় কার্যালয়ের অস্তিত্ব নেই। কারো ঠিকানা ব্যবহার হয়েছে শ্বশুরবাড়ির, কারো গুদামঘরের। এর মধ্যে নিবন্ধনের আবেদন করেছে বাংলাদেশ জনশক্তি পার্টিও। তাদের ঠিকানা রাজধানীর দিলকুশায়। ইসিতে দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে কোনো সাইনবোর্ড বা দলের কার্যালয় খুঁজে পাওয়া যায়নি। উল্লিখিত ভবনের কেউ এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি। এ প্রসঙ্গে দলটির সদস্য সচিব জহির উদ্দিন বলেন, নতুন দলের আবেদন করেছেন তারা। আর দলীয় কার্যালয়ের ঠিকানা হিসেবে একটি রুম রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
| ফজর | ০৪:৫৪-০৬:০৮ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১২:০৯-০৪:২৫ মিনিট দুপুর |
| আছর | ০৪:২৬-০৬:০৬ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ০৬:১০-০৭:২১ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ০৭:২২-০৮:৪৯ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |