আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পর আরেকটা যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার রাতে দেশের বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এমন কথা বলেছেন তিনি। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, 'প্রধান উপদেষ্টার সাথে বৈঠকে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছি।' তিনি বলেন, 'গত কয়েক দিনের ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টা বিব্রত হয়েছিলেন। তাই পদত্যাগের কথা ভাবছিলেন। আমরা বলেছি, এতে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হবে।'
চার দিনের সফরে আগামী ২৮ মে জাপান যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সফরে প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা, ম্যানপাওয়ার, অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ, জ্বালানি, বিডার সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ কয়েকটি খাতে সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হতে পারে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেট সহায়তার ঘোষণা দিতে পারে জাপান।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতীয় হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ এবং গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগের বিচার দাবি করে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে সমাবেশ করেছে 'জুলাই ঐক্য'। রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। রোববার বিকেল পাঁচটা থেকে আধাঘন্টার মতো এ বৈঠক হয় বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা। জানা গেছে, আজ বিকেল পাঁচটার কিছু সময় আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারি বাসভবন যমুনায় প্রবেশ করেন। সাক্ষাত শেষে সাড়ে পাঁচটার দিকে প্রধান বিচারপতি যমুনা থেকে বের হন।
চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন ১১টি রাজনৈতিক দলের ১১ জন নেতা। রোববার বিকেল ৬টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় এ বৈঠক শুরু হয়।
দেশে প্রতি বছর হাজার হাজার নারী জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। অথচ আগেভাগে স্ক্রিনিং ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এই মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যহারে কমানো সম্ভব। এ বাস্তবতা মাথায় রেখেই দেশের ৩০ লাখ নারীকে এইচপিভি স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, স্বৈরাচার সকল ছিদ্র বন্ধ করলেও তার পতনের ছিদ্র বন্ধ করতে পারে না। তারা দেশের মধ্যে আয়নাঘর সৃষ্টি করে, মানুষকে গুম করে মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়। তারা দেশে দেশে বেগমপাড়া তৈরি করে, বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে।
ক্যাপিটাল মার্কেট সাংবাদিক ফোরামের আয়োজিত সিএমজেএফ টক অনুষ্ঠানে কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ছবি: সংগৃহীত চট্টগ্রাম বন্দরকে কোনো দেশ বা কোম্পানিকে দেয়া হচ্ছে না, বরং বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনায় আগ্রহী সরকার-এমনটাই জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কুরবানির পশুর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। রোববার (২৫) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে চামড়া সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক শেষে মূল্য ঘোষণা করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরুদ্দ্দীন।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম ধাপের আলোচনায় অনেক বিষয়েই ঐকমত্য তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ। তবে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য সৃষ্টি হবে না, সেগুলোও জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
পদ্মা সেতু চালুর তিন বছর পার হলেও এখনো সারচার্জ দিচ্ছেন মোবাইল ফোনের গ্রাহকরা। প্রতি ১০০ টাকা রিচার্জে নেয়া হয় ১ টাকা। ২০১৬ সালে চালু হয়ে এখন পর্যন্ত এই সারচার্জ বাবদ ৯ বছরে সরকার দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছে। আসছে বাজেটে এটি তুলে নেয়ার আহ্বান মোবাইল অপারেটরদের। পাশাপাশি সিম করও প্রত্যাহার চান তারা।
অন্য সরকারের চেয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বেশি ম্যান্ডেট রয়েছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, যথা সময়ে নির্বাচন হবে। নির্বাচন নিয়ে বিদেশি কোনো চাপে নেই সরকার।
নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এখন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমকে পাঠানো উপদেষ্টা পরিষদের বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, দায়িত্ব পালন অসম্ভব করে তুললে জনগণকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। কয়েকজন উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সংস্কার প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকার কোনো আপস করবে না। ঘোষিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন হবে। ফ্যাসিবারের বিচার অবশ্যই করা হবে। একঘরে দুই পীর অর্থ্যাৎ কোনো সমান্তরাল সরকার পরিচালনার যেকোনো চেষ্টা মোকাবিলা করা হবে।
শেখ হাসিনার আমলে অনুষ্ঠিত হওয়া সব নির্বাচন (জাতীয় ও স্থানীয়) আনুষ্ঠিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার (২৪ মে) রাত সোয়া ১০টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে যমুনার সামনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।